ঢাকা , শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ , ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের সব ফিলিং স্টেশনে তদারকিতে থাকছেন ‌নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-২৭ ২৩:৪৮:৫২
কুড়িগ্রামের সব ফিলিং স্টেশনে তদারকিতে থাকছেন ‌নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ কুড়িগ্রামের সব ফিলিং স্টেশনে তদারকিতে থাকছেন ‌নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
চলমান জ্বালানি তেল সংকটে কুড়িগ্রামের সবক‌টি ফি‌লিং স্টেশন তদারকির জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংযুক্তি দিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেক‌পোস্ট বসা‌নোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়ে‌ছে।‌
 
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হ‌য়ে‌ছে, ‘জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোর দৈনিক প্রাপ্যতার চাহিদা ও মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ মজুত বন্ধ, খোলাবাজারে অবৈধ তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা এবং দৈনিক জ্বালানি তেল প্রাপ্তি ও বিক্রির প্রতিবেদন সংগ্রহের জন্য বর্ণিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে তাদের নামের পাশে বর্ণিত ফিলিং স্টেশনে তদারকির নিমিত্ত নিয়োজিত করা হলো।’
 
এর আগে কুড়িগ্রাম জেলার ফি‌লিং স্টেশনগু‌লো‌তে অভিযান শুরু ক‌রে‌ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। অভিযানে পাম্পগু‌লো মজুত রে‌জিস্ট্রার যাচাইসহ অধিকতর নিশ্চিত হ‌তে মজুত ট্যাংক খুলে পরীক্ষা করা হ‌য়। একইসঙ্গে খুচরা বাজা‌রে তেল বিক্রি মনিটরিং করা হ‌য়। তবে পাম্পগু‌লো‌তে ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ কম থাকায় অভিযান চালিয়েও সংকট নিরসন সম্ভব হয়নি।
 
কুড়িগ্রাম জেলা ফি‌লিং স্টেশন ওনার্স অ‌্যা‌সো‌সি‌য়েশন সূত্র জানায়, রেশ‌নিং পদ্ধতিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল সরবরাহ করায় জেলার ২২টি ফি‌লিং স্টেশন ঈদের আগেই তেলশূন‌্য হয়ে পড়ে। এতে গ্রাহকরা ভোগান্তি‌তে পড়েন। ঈদের পর তেল সরবরাহ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। আবার সব ফি‌লিং স্টেশন একসঙ্গে তেল পাচ্ছে না। ফলে এক‌টি ফি‌লিং স্টেশনে তেল আসামাত্র সেখানে গ্রাহক‌দের অতিমাত্রায় চাপ তৈরি হচ্ছে। সবাই হুমড়ি খেয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
 
সূত্র আরও জানায়, কিছু ক্ষেত্রে একই মোটরসাইকেল চালক বারবার লাইনে দাঁড়ি‌য়ে তেল নিচ্ছেন। ফলে মজুতদারি ও কা‌লোবাজা‌রে তেল বিক্রির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এ জন্য প্রশাসনের কাছে চেক‌পোস্ট বসিয়ে মোটরসাই‌কেল নিয়ন্ত্রণের জন্য অনুরোধ জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে। এ‌টা করা গেলে মোটরসাইকেল চালক‌দের দৌরাত্ম অনেকটা কমে যাবে।
 
কুড়িগ্রাম ফি‌লিং স্টেশন ওনার্স অ‌্যা‌সো‌সি‌য়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামান আহমেদ বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পগু‌লো‌ তদারকির জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হ‌য়ে‌ছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও রেজিস্ট্রেশন প্লেট ছাড়া মোটরসাইকে‌লে তেল বিক্রি কর‌তে বারণ করা হ‌য়ে‌ছে। আমরা নিরাপত্তা চেয়েছি।’
 
‘কুড়িগ্রাম জেলায় চাহিদার চে‌য়ে ২৪ ভাগ কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার একইসঙ্গে সব পাম্পে তেল দেওয়া হচ্ছে না। দুটা পাম্প তেল পেলে তিনটা পায় না। ফলে সংকটের আশঙ্কায় গ্রাহকরা তেল কিনতে তোড়জোড় করছেন। আমরা চাই চাহিদা অনুযায়ী সব পাম্পে একসঙ্গে তেল সরবরাহ করা হোক। তাহলে চাপ কমে যাবে। ’ যোগ করেন তেল ব্যবসায়ী‌দের এই নেতা।
 
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘ফি‌লিং স্টেশনগু‌লো‌তে ‌মোটরসাইকেল চালক‌দের চাপ বেশি। অনেকে বারবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে মজুত ও কা‌লোবাজা‌রির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় নি‌য়ে পাম্পগু‌লো তদারকিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নি‌য়ো‌জিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেক‌পোস্ট বসা‌নোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে‌ছে। সরবরাহ বাড়া‌তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগা‌যোগ করা হচ্ছে।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ